ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শেখ মুজিবুর রহমান হলের (প্রস্তাবিত শহীদ ওসমান হাদি হল) ছাদে গভীর রাতে মাদক সেবনের প্রস্তুতিকালে চারজনকে আটক করা হয়েছে। আটক ব্যক্তিদের মধ্যে দুইজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী এবং বাকি দুইজন বহিরাগত বলে জানিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
ঘটনাটি ঘটে বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) দিবাগত রাত আনুমানিক ২টার দিকে, হলের পুরাতন ভবনের ছাদে। আটক শিক্ষার্থীরা হলেন সমাজকল্যাণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউটের ২০১৯–২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী আব্দুল্লাহ আল নোমান এবং অর্থনীতি বিভাগের ২০২৩–২৪ শিক্ষাবর্ষের তানবীন আহমেদ, যিনি আহমেদ আনিম নামেও পরিচিত।
তানবীন আহমেদ ছাত্রদলের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত বলে জানা গেছে এবং তিনি বিজয় একাত্তর হল ছাত্রদলের আহ্বায়ক তানভীর আল হাদী মায়েদের অনুসারী হিসেবে পরিচিত। অপর দুই আটক বহিরাগত হলেন সামিউল ও রাকিব।
হল সূত্রে জানা যায়, ছাদে মাদক সেবনের প্রস্তুতির খবর পেয়ে হল সংসদের ভিপি মুসলিমুর রহমান ও এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি কয়েকজন শিক্ষার্থীকে সঙ্গে নিয়ে ঘটনাস্থলে যান। সেখানে চারজনকে সন্দেহজনক অবস্থায় দেখে তাদের পরিচয় জানতে চাওয়া হয় এবং তাৎক্ষণিকভাবে প্রক্টরিয়াল টিমকে অবহিত করা হয়।
পরে সেখানে তামাকপাতা, গাঁজা ও কলকি উদ্ধার করা হয়। আটক বহিরাগত সামিউল জানান, তিনি ও রাকিব ডেমরা এলাকায় থাকেন। ধানমন্ডিতে একটি কাজে এসে রাত হয়ে যাওয়ায় পরিচিতদের সঙ্গে হলে আসেন। ছাদে ওঠার বিষয়ে তিনি বলেন, শরীর ভালো না লাগায় বন্ধুদের সঙ্গে সেখানে গিয়েছিলেন।
অন্যদিকে শিক্ষার্থী তানবীন আহমেদ প্রথমে মাদক সংশ্লিষ্টতার অভিযোগ অস্বীকার করলেও পরবর্তীতে প্রমাণ দেখানো হলে স্বীকার করেন যে উদ্ধারকৃত সামগ্রী তাদের সঙ্গেই ছিল।
প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য রিপন বলেন, সংবাদ পেয়ে তারা দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে চারজনকে আটক করেন। বহিরাগতদের সাধারণত থানায় সোপর্দ করা হয় এবং শিক্ষার্থীদের ক্ষেত্রে বিশ্ববিদ্যালয়ের বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়। বিষয়টি নিয়ে এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
হল সংসদের এজিএস মুশফিক তাজওয়ার মাহি বলেন, গভীর রাতে ছাদে লোকজনের উপস্থিতি নজরে আসায় তিনি বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নেন। পুরাতন ভবনে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কম থাকায় আগেও এ ধরনের ঘটনা ঘটেছে বলে জানান তিনি। ডাকসু নির্বাচনের সময় দেওয়া ‘মাদকের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স’ নীতির কথা উল্লেখ করে তিনি দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানান।
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর অধ্যাপক সাইফুদ্দিন আহমেদ বলেন, ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পর প্রক্টরিয়াল টিম পাঠানো হয়েছে। যেহেতু আটকদের মধ্যে হলের শিক্ষার্থী রয়েছে, তাই হল প্রশাসন বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেবে এবং সে অনুযায়ী পরবর্তী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হবে।