পাবলিক প্লেসে ধূমপানের অভিযোগে মির্জা আব্বাসকে ২ হাজার টাকা জরিমানা

পাবলিক প্লেসে ধূমপানের অভিযোগে মির্জা আব্বাসকে ২ হাজার টাকা জরিমানা—গুজব নাকি সত্য?
সম্প্রতি পাবলিক প্লেসে ধূমপান নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এর পেছনে রয়েছে বাংলাদেশে তামাক নিয়ন্ত্রণ আইনের কঠোর প্রয়োগ এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ছড়িয়ে পড়া একটি আলোচিত গুজব।

বাংলাদেশে ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহারের ওপর নিয়ন্ত্রণ আরোপের জন্য ‘ধূমপান ও তামাকজাত দ্রব্য ব্যবহার (নিয়ন্ত্রণ) আইন, ২০০৫’ (২০১৩ সালে সংশোধিত) কার্যকর রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে এই আইনের প্রয়োগ আরও কঠোর করা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট মহল জানিয়েছে।
আইন অনুযায়ী—পাবলিক প্লেসে ধূমপান সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, হাসপাতাল, অফিস, গণপরিবহন, জনসভা, সভা-সমাবেশ, শপিং মলসহ সব ধরনের জনসমাগমস্থলে ধূমপান করা দণ্ডনীয় অপরাধ এসব স্থানে সিগারেট বিক্রিও নিষিদ্ধ পাবলিক প্লেসে ধূমপান করলে সর্বোচ্চ ২ হাজার টাকা পর্যন্ত জরিমানা বা অন্যান্য শাস্তির বিধান রয়েছে।

এই প্রেক্ষাপটে সম্প্রতি অনলাইনে একটি ভিডিও ও ছবিকে কেন্দ্র করে আলোচনা শুরু হয়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দাবি করা হয়, বিএনপির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাসকে তার একটি নির্বাচনী জনসভায় প্রকাশ্যে সিগারেট খেতে দেখা গেছে। এরপরই ফেসবুক ও অন্যান্য প্ল্যাটফর্মে ট্রল ও ব্যঙ্গাত্মক পোস্ট ছড়িয়ে পড়ে।

ট্রলের অংশ হিসেবে অনেকেই দাবি করতে থাকেন, পাবলিক প্লেসে ধূমপানের দায়ে মির্জা আব্বাসকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

তবে বিষয়টি নিয়ে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের (DNC) কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা স্পষ্টভাবে জানান,
“মির্জা আব্বাসকে জরিমানা করার বিষয়ে আমাদের কাছে কোনো অফিসিয়াল তথ্য নেই। এ ধরনের খবর সম্পূর্ণ গুজব।”

কর্মকর্তারা আরও জানান, আইন প্রয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট প্রক্রিয়া অনুসরণ করা হয় এবং কোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হলে তা আনুষ্ঠানিকভাবে নথিভুক্ত থাকে।

এদিকে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা বলছেন, নির্বাচনী মৌসুমে এ ধরনের গুজব ও ট্রল রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ছড়ানো হয়, যা সাধারণ মানুষের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি করে।
সুতরাং, বর্তমান তথ্য অনুযায়ী মির্জা আব্বাসকে ২ হাজার টাকা জরিমানা করার খবরটি নিশ্চিত নয় এবং এটি গুজব বলেই মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তর জানিয়েছে।

Post a Comment

0 Comments