আমি সেদিন বেগম জিয়ার কার্যালয় ঘেরাও করতে যাইনি, উনাকে উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম: চঞ্চল চৌধুরী।

২০১৫ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি।
সেদিন দেশজুড়ে অবরোধ, আগুন, মৃত্যু আর আতঙ্ক। সেই দুঃসময়ে সংবাদমাধ্যমে স্পষ্ট ভাষায় লেখা হয়েছিল—খালেদা জিয়ার গুলশান কার্যালয় ঘেরাও করতে গিয়েছিলেন কিছু সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। নামের তালিকায় ছিলেন চঞ্চল চৌধুরী।
সেদিন কেউ দ্বিধা করেনি শব্দ ব্যবহার করতে।
ঘেরাও মানে ঘেরাওই ছিল।
কিন্তু দশ বছর পেরিয়ে, দুই দিন আগে চঞ্চল চৌধুরী হঠাৎ নতুন বয়ান হাজির করলেন—
“আমি সেদিন ঘেরাও করতে যাইনি, উদ্ধার করতে গিয়েছিলাম।”

এই বক্তব্য শুধু একটি ঘটনার ব্যাখ্যা নয়, বরং নিজের অতীত অবস্থান থেকে সরে আসার এক নগ্ন চেষ্টা।
কারণ প্রশ্নটা খুব সোজা—
যদি উদ্ধার করতেই যেতেন, তাহলে সেদিন কেউ কেন সেটা বললো না?

সংবাদ কেন ‘উদ্ধার’ শব্দটা ব্যবহার করলো না?
আর সবচেয়ে বড় কথা—তখন কেন এই আপত্তি তোলা হলো না?

সত্য হলো, সে সময়ের রাজনৈতিক বাতাস যেদিকে বইছিল, চঞ্চল চৌধুরী সেদিকেই দাঁড়িয়েছিলেন। ক্ষমতার বিপরীতে দাঁড়ানো নয়, বরং নিরাপদ দূরত্ব বজায় রেখে সুবিধাজনক নাফরমানি—এই ছিল সেই দিনের চরিত্র।

আজ যখন রাজনৈতিক বাস্তবতা বদলেছে, সামাজিক মূল্যায়নের পাল্লাও বদলেছে, তখন সেই নাফরমানির দায় এড়াতে গিয়ে ইতিহাস নতুন করে লিখতে চাওয়া হচ্ছে।
এটা ভুলে গেলে চলবে না—
নাফরমানি শুধু অন্যায় আদেশ মানা না করা নয়,
নাফরমানি হলো নিজের সুবিধার জন্য সত্যকে বাঁকিয়ে ফেলা।

চঞ্চল চৌধুরীর সাম্প্রতিক বক্তব্য সেই বাঁকানোরই উদাহরণ।
এটা সাহসী স্বীকারোক্তি নয়,
এটা দেরিতে আসা আত্মরক্ষা।
ইতিহাস খুব নির্মম।

সে ভিডিও, সংবাদ, শিরোনাম ভুলে যায় না।
আজ “উদ্ধার” বলা গেলেও, ২০১৫ সালের কাগজে লেখা আছে—“ঘেরাও”।

আর এই দুই শব্দের মাঝখানেই লুকিয়ে আছে
একজন শিল্পীর রাজনৈতিক নাফরমানি
এবং সময় বুঝে অবস্থান বদলানোর গল্প।

Post a Comment

0 Comments