জেলে ঘুষি মেরে সালমান এফ রহমানের দাঁত ভাঙল ছিনতাই মামলার আসামি

সরকারি পতনের পর রাজধানীর সাদারঘাট এলাকা থেকে সালমান এফ রহমানকে গ্রেফতার করা হয় এবং বর্তমানে তিনি জেলখানায় থাকাকালীন সংঘর্ষে আক্রান্ত হয়ে তার এক দাঁত ভেঙে গেছে বলে কারা ও আইনশৃঙ্খলা সূত্র জানিয়েছে।

সালমান এফ রহমান, যিনি সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগ উপদেষ্টা ছিলেন, ১৩ আগস্ট ২০২৪-এ রাজধানীর সাদারঘাট এলাকা থেকে পলাতে চেষ্টা করার সময় নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে আটক হন। এ সময় তার সঙ্গে সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হককেও গ্রেফতার করা হয়েছিল। 

গ্রেফতারের পর তাকে বিভিন্ন মামলায় রিমান্ডে রাখা এবং আদালতে প্রমাণিত করে হাজত খাটানো হয়েছে। একটি মামলায় তাকে মারামারি, হত্যাচেষ্টাসহ তদন্তের জন্য তিনদিন রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল, এবং পরবর্তীতে শাহজাহান আলী হত্যা মামলাতেও রিমান্ডে রাখা হয় বলে জানা গেছে। 
এরপর থেকে তিনি বিভিন্ন অর্থপাচার, ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও মানি লন্ডারিং মামলা-সহ বেশ কয়েকটি মামলার আসামি হিসেবে থাকেন। ২০২৫ সালের ২৮ আগস্ট তাকে চারটি ভিন্ন দুর্নীতি মামলায় আদালতে ‘শোয়ারন অ্যারেস্টেড’ হিসেবে দেখানো হয়, যেখানে অভিযোগ ছিল ব্যাংক ঋণ জালিয়াতি ও অর্থ আত্মসাৎ। 

সেপ্টেম্বর ২০২৫-এ আরও একটি মামলায় তার বিরুদ্ধে টেলিযোগাযোগ নিয়মিতায়ণ ব্যবস্থার নামে ৫৬৮ কোটি টাকা আত্মসাৎ মামলাও দায়ের করা হয়। 

ভারত পালানোর সময় গ্রেফতার হওয়ার পর থেকে তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হেফাজতে কারাগারে রয়েছেন, এবং বিভিন্ন মামলার তদন্ত ও শুনানি চলমান রয়েছে। সম্প্রতি দুদক চারটি বড় মামলার অনুমোদন দেয়, যার মধ্যে রয়েছে Tk ২,৮৫৭ কোটি টাকা আত্মসাৎ ও মানিলন্ডারিং সংক্রান্ত অভিযোগ। 

কারা সূত্র জানায়, গত সপ্তাহ জেলখানায় উপস্থিত বন্দিদের সঙ্গে সালমান এফ রহমানের গোষ্ঠীর মালপোয়া সংক্রান্ত বিবাদে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, এবং সেই সময় প্রতিপক্ষের একজন বন্দি তাকে ঘুষি মারলে তাঁর দাঁতের এক অংশ ভেঙে যায়। ঘটনার পর তাকে সংশ্লিষ্ট হাসপাতাল প্রেরণ করা হয়েছে এবং ঘটনাটি নিয়ে উপযুক্ত তদন্ত শুরু হয়েছে বলে কারা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।

এই ব্যাপারে সালমান এফ রহমান বা তার আইনজীবীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।

আইনি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, বিভিন্ন মামলা ও হাজতে দীর্ঘ সময় থাকার ফলে কারাগার ভিতর সংঘর্ষের ঝুঁকি বাড়ছে, এবং নিরাপত্তা ব্যবস্থায় আরও জোর দিক নির্দেশের প্রয়োজন রয়েছে।

Post a Comment

0 Comments