সাকিবের গোআমারা খাওয়ার দুই বছর পূর্তি


 ৭ই জানুয়ারি ২০২৩-এ আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পেয়ে সারা দেশে হইচই ফেলেছিলেন তারকা অলরাউন্ডার সাকিব আল হাসান। মাঠের সাফল্যের মতোই রাজনীতির মাঠেও তিনি যে ‘বড় কিছু’ করবেন—দলীয় নেতাকর্মীদের মধ্যে এমন আশাই তৈরি হয়েছিল। ভোটের দিন শেষ পর্যন্ত ফলাফল তার পক্ষেই যায়, এবং তিনি এমপি হিসেবে সংসদে প্রবেশ করেন—যা তার জীবনে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা।

সংসদে প্রথম দিকের অধিবেশনগুলোতে সাকিবকে দেখা যায় বেশ উচ্ছ্বসিত। যুবসমাজ, খেলাধুলা, শিক্ষা ও স্থানীয় উন্নয়ন নিয়ে তিনি নানান পরিকল্পনার কথা বলতেন। এলাকায় সড়ক, হাসপাতাল আর খেলার মাঠ উন্নয়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। অনেকেই বলছিলেন—ক্রিকেটার সাকিব এবার রাজনীতিতেও ‘অলরাউন্ড পারফরম্যান্স’ দেখাবেন।

কিন্তু মাত্র সাত মাসের মাথায় সব হিসাব বদলে যায়। ছাত্র আন্দোলনে জেরে সরকার ক্ষমতা হারায়। পরিস্থিতি দ্রুত উত্তেজনাপূর্ণ হয়ে ওঠে। নতুন বাস্তবতায় সাবেক সরকারের অনেক নেতাই সমালোচনা ও চাপের মুখে পড়েন—সেই ঢেউ এসে লাগে সাকিবের দিকেও।

বিভিন্ন জায়গায় তার নাম নিয়ে বিতর্ক, সমাবেশে স্লোগান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নানান অভিযোগ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি ক্রমেই অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে। ঘনিষ্ঠ মহলের দাবি, নিরাপত্তা ও পরিবারের কথা ভেবেই সাকিব সিদ্ধান্ত নেন সাময়িকভাবে দেশ ছাড়ার। কেউ বললেন “বিদেশ পালিয়ে গেছেন”, কেউ বললেন “সময় কাটাতে বাইরে আছেন”—আসলে কোনটা সত্য, তার স্পষ্ট বক্তব্য তখনো পাওয়া যায়নি।

Post a Comment

0 Comments