ঝিনাইদহ প্রতিনিধি |
ভোটের মাঠে হার-জিত থাকে, কিন্তু নিজের জানাজা নিয়ে এমন 'খেল' দেখাবেন ঝিনাইদহের এক যুবদল নেতা, তা ভাবেনি কেউ। ফেসবুক লাইভে এসে নাটকীয়ভাবে নিজের পূর্বঘোষিত জানাজা বাতিল ঘোষণা করেছেন তিনি। তার দাবি, "রাজনৈতিক পরিস্থিতি স্থিতিশীল না হওয়া পর্যন্ত মরার কোনো সুযোগ নেই।"
১. জানাজার তারিখ ও বিভ্রান্তি
ঘটনার সূত্রপাত হয় গতকাল, যখন ওই নেতা আবেগের বশে পোস্ট দিয়ে বসেন যে, তিনি 'রাজনৈতিকভাবে মৃত' এবং আগামীকাল আসরের পর তার জানাজা সম্পন্ন হবে। পাড়া-প্রতিবেশী এবং কর্মীরা যখন খাটিয়া আর গোলাপজলের বাজেট নিয়ে চিন্তিত, ঠিক তখনই মধ্যরাতে লাইভে আসেন তিনি।
২. লাইভে এসে ‘পুনরুত্থান’
লাইভ শুরু করেই তিনি বলেন, "ভাইসব, ইমোশনাল হয়ে জানাজার ঘোষণা দিয়েছিলাম। কিন্তু পরে চিন্তা করলাম, আমি মরে গেলে আমার এলাকার মিছিলের সামনের সারিতে সেলফি তুলবে কে? তাই আপাতত জানাজা স্থগিত করা হলো। ইনশাআল্লাহ, আন্দোলন সফল হলে তখন দেখা যাবে।"
৩. ফেসবুক কমেন্টবক্সের প্রতিক্রিয়া
নেতার এই ইউ-টার্নের পর কমেন্টবক্সে জনরোষ ও হাসির রোল পড়ে গেছে।
- এক ইউজার লিখেছেন, "ভাই, বিরিয়ানির অর্ডারটা কি এখন ক্যানসেল করব, নাকি পিকনিক হিসেবে চালিয়ে দেব?" * অন্য একজন মন্তব্য করেছেন, "রাজনীতিতে শেষ কথা বলে কিছু নেই, আজ প্রমাণিত হলো মৃত্যুতেও শেষ কথা বলে কিছু নেই!"
৪. উপজেলা বিএনপির সতর্কতা
এদিকে জেলা বিএনপি থেকে কড়া বার্তা দেওয়া হয়েছে যেন কেউ হুটহাট জানাজার ঘোষণা না দেয়। এক সিনিয়র নেতা বলেন, "মরার আগে অন্তত দুইবার দলের পারমিশন নিতে হবে। জানাজা মানেই জমায়েত, আর জমায়েত মানেই পুলিশ। আমরা এখন পুলিশের সামনে জানাজা পড়তে রাজী নই।"
পিছনের কথা: স্থানীয়দের ধারণা, নেতা আসলে জানাজার মাধ্যমে কতজন মানুষ জমায়েত হয় তা দেখে নিজের ‘জনপ্রিয়তা’ টেস্ট করতে চেয়েছিলেন। কিন্তু লাইক-শেয়ার কম দেখে আত্মসম্মান রক্ষায় জানাজা বাতিল করেছেন।
