নয়াপল্টন ব্যুরো:
দেশের রাজনৈতিক ইতিহাসে সবচেয়ে বড় ‘টুইস্ট’ দিয়ে নিজের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানকেই বহিষ্কার করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। জানা গেছে, আসন্ন একটি প্রতীকী গণভোটে দলীয় সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে ‘হ্যাঁ’ বাক্সে ভোট দেওয়ার প্রচারণা চালানোই তার জন্য কাল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
১. শৃঙ্খলা কমিটির জরুরি বৈঠক
গত রাতে নয়াপল্টনের অন্ধকার ঘরে মোমবাতি জ্বালিয়ে এক জরুরি বৈঠকে বসেন স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। বৈঠকের মূল এজেন্ডা ছিল— "দলের প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের প্রবর্তিত 'হ্যাঁ-না' ভোটের ঐতিহ্যের অবমাননা।" নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নেতা জানান, "দলের নীতি হলো সবকিছুতে ‘না’ বলা। সেখানে তারেক রহমান হঠাৎ ‘হ্যাঁ’ পন্থী হয়ে উঠলে দলের ইমেজে চটচটে দাগ পড়ে যায়। তাই আমরা তাকে সসম্মানে বিদায় করেছি।"
২. তারেক রহমানের 'পজিটিভ' অপরাধ
অভিযোগ উঠেছে, তারেক রহমান লন্ডনে বসে এক জুম মিটিংয়ে ভুলে বলে ফেলেছিলেন, "আমাদের পজিটিভ রাজনীতি করতে হবে এবং যেকোনো ভালো প্রস্তাবে ‘হ্যাঁ’ বলতে শিখতে হবে।" ব্যস! এই ‘হ্যাঁ’ শব্দটি শোনার পর থেকেই দলের ভেতরে কানাকানি শুরু হয়। দলের কট্টরপন্থী কর্মীরা বলছেন, "আমরা ১৭ বছর ধরে রাজপথে ‘না’ বলতে বলতে গলা ফাটিয়ে ফেললাম, আর নেতা এখন ‘হ্যাঁ’ এর প্রচারণা চালাচ্ছেন? এটা তো সরাসরি আদর্শচ্যুতি!"
৩. "হ্যাঁ" মানেই কি আত্মসমর্পণ?
বিএনপির এক মুখপাত্র ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, "আমাদের ডিকশনারিতে ‘হ্যাঁ’ বলে কোনো শব্দ নেই। আমরা ইভিএমে না, নির্বাচনে না, এমনকি চা পানের দাওয়াতেও না বলতে অভ্যস্ত। সেখানে ‘হ্যাঁ’ এর পক্ষে প্রচারণা চালানো মানেই হলো হারপিক দিয়ে দলের সব জেদ ধুয়ে মুছে পরিষ্কার করে ফেলা।"
৪. লন্ডনের প্রতিক্রিয়া
বহিষ্কারের খবর শুনে তারেক রহমান একটি ভিডিও বার্তায় কেবল মুচকি হেসেছেন। নেটিজেনরা বলছেন, তিনি হয়তো সেখানেও ‘হ্যাঁ’ বলতে যাচ্ছিলেন, কিন্তু মাঝপথে মিউট হয়ে গেছেন। এদিকে তৃণমূল কর্মীরা বিভ্রান্ত—তারা বুঝতে পারছেন না এখন থেকে মিছিলের স্লোগান কি "না না না" হবে নাকি "হ্যাঁ হ্যাঁ হ্যাঁ" হবে।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে: বিএনপির এই সিদ্ধান্ত প্রমাণ করে যে, রাজনীতিতে 'পজিটিভ' হওয়া কতটা ঝুঁকিপূর্ণ। বিশেষ করে যখন আপনার দলের নাম হয় 'অপজিশন'।
