বিশেষ প্রতিনিধি |
দেশের সাইবার জগতে তোলপাড় ফেলে দেওয়া জামাত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্ট হ্যাকের ঘটনায় নতুন মোড়! দীর্ঘদিনের জল্পনা-কল্পনা, পুলিশ ও সাইবার বিশেষজ্ঞদের অক্লান্ত পরিশ্রম (যা কোথাও দেখা যায়নি) শেষে হ্যাকারকে খুঁজে পাওয়া গেছে। তবে কোনো ডিটেক্টিভ থ্রিলার স্টাইলে নয়, বরং তাকে দেখা গেছে এক সম্পূর্ণ অপ্রত্যাশিত স্থানে – জনপ্রিয় বক্তা আমির হামজার মাহফিলে!
ঘটনা সূত্রপাত: ‘আমি কেন একা?’
মাস খানেক আগে জামাত আমিরের অফিসিয়াল টুইটার অ্যাকাউন্ট থেকে একটি রহস্যময় টুইট করা হয়: "আমি কেন একা? সবাই মিলেমিশে থাকি, নামাজ পড়ি আর ভালো ভালো পোস্ট করি।" এই টুইট দেখে প্রথমে সবাই ভেবেছিল আমির সাহেব হয়তো আধ্যাত্মিক কোনো উপলব্ধিতে পৌঁছেছেন। কিন্তু এর পরপরই যখন তার অ্যাকাউন্ট থেকে "টিকটক ফর লাইফ" এবং "নেভার গিভ আপ অন ফুচকা" টাইপের পোস্ট আসা শুরু করলো, তখন সাইবার বিশেষজ্ঞরা (এবং সাধারণ জনগণ) বুঝতে পারলেন—ডাল মে কুছ কালা হ্যায়!
হ্যাকার ধরা পড়লো ‘বেহেশতের টিকিট’ বিতরণে
সারা দেশ যখন হ্যাকারকে খুঁজছে, তখন গতকাল রাতে এক চাঞ্চল্যকর ঘটনা ঘটলো। কুষ্টিয়ার ওয়াজপুরে আমির হামজার বিশাল মাহফিল চলছিল। লাখো জনতার ভিড়ে এক যুবককে দেখা যায়, মঞ্চের কাছাকাছি দাঁড়িয়ে বেশ মনোযোগ দিয়ে হামজা সাহেবের ওয়াজ শুনছে। তার হাতে ছিল একটি কাগজের ব্যানার, যাতে লেখা: "হ্যাকিং ছেড়েছি, এখন বেহেশতের টিকিট কাটছি!"
মজার ব্যাপার হলো, সে নিজের অজান্তেই একটি লাইভ স্ট্রিমিংয়ে চলে আসে এবং তার হাতে থাকা ফোনে জামাত আমিরের টুইটার অ্যাকাউন্টের লাইভ ফিড চলছিল, যেখানে সে তখনো "মাহফিলে এসে মনটা ভরে গেল" টাইপের কিছু একটা টাইপ করছিল!
হ্যাকারের স্বীকারোক্তি: "মন ভালো ছিল না..."
পুলিশ তাকে হাতেনাতে ধরার পর জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হ্যাকার একজন তরুণ, যার নাম "সাইবার সাকিব" (আসল নাম নয়)। সাকিব জানায়, "আসলে মনটা ভালো ছিল না। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, ইউটিউব — সব কিছুতেই মন মেজাজ খারাপ ছিল। ভাবলাম একটু বিনোদন দেই। আমির সাহেবের ওয়াজ শুনে এখন মনটা অনেক শান্ত।"
সে আরও জানায়, জামাত আমিরের টুইটার হ্যাক করা তার জন্য "বাম হাতের খেল" ছিল। তবে সে আল্লাহর কাছে ক্ষমা চেয়ে এখন ভালো হয়ে যেতে চায়। তার নাকি হ্যাকিংয়ের চেয়ে এখন আমির হামজার ওয়াজে বেশি শান্তি লাগে।
সাইবার বিশেষজ্ঞরা বিভ্রান্ত: "এটা কেমন হ্যাকিং?"
এই ঘটনায় সাইবার নিরাপত্তা বিশেষজ্ঞরা সম্পূর্ণ হতবাক। একজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সাইবার বিশেষজ্ঞ বলেন, "আমরা বছরের পর বছর ধরে জটিল অ্যালগরিদম, ফায়ারওয়াল নিয়ে কাজ করছি, আর হ্যাকার ধরা পড়লো মাহফিলের লাইভ স্ট্রিমিংয়ে! এটা আমাদের সাইবার সিকিউরিটি গবেষণায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করলো।"
জামাত শিবির অবশ্য এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি, তবে শোনা যাচ্ছে, তারা নাকি সাকিবকে সাইবার উইংয়ের প্রধান বানানোর কথা ভাবছে।
