ব্যাংক লোন মওকুফ ও বীমার টাকা ক্ষতিপূরণ হিসেবে পেতে উত্তরার আউটলেটে তন্বীর ভাঙচুর নাটক!

নিজস্ব প্রতিবেদক, ঢাকা ১৯ মার্চ, ২০২৬
উত্তরা, ঢাকা: রাজধানীর উত্তরার একটি ব্যবসায়িক আউটলেটে ভাঙচুরের ঘটনাকে কেন্দ্র করে ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। ব্যাংক ঋণ মওকুফ এবং বীমা কোম্পানি থেকে বিপুল অঙ্কের ক্ষতিপূরণ আদায়ের উদ্দেশ্যে প্রতিষ্ঠানটির মালিক তন্বী নিজেই এই ‘ভাঙচুর নাটক’ সাজিয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল বুধবার বিকেলে উত্তরার ওই আউটলেটে এই ঘটনা ঘটে। প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে, আর্থিক সংকট থেকে মুক্তি পেতেই পরিকল্পিতভাবে এই ভাঙচুরের ঘটনা ঘটানো হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ প্রত্যক্ষদর্শী ও সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, গতকাল আকস্মিকভাবে উত্তরার ওই আউটলেটে ভাঙচুরের খবর ছড়িয়ে পড়ে। ঘটনার সময় প্রতিষ্ঠানের ভেতরে থাকা আসবাবপত্র ও মালামালের ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি লক্ষ্য করা যায়। তবে শুরু থেকেই বিষয়টি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে সন্দেহ তৈরি হয়। অভিযোগ রয়েছে, আউটলেটের মালিক তন্বী তার ব্যক্তিগত ও ব্যবসায়িক ঋণের বোঝা কমাতে এবং বীমা দাবি পাওয়ার পথ সুগম করতে বহিরাগত কিছু লোকের সহায়তায় নিজের প্রতিষ্ঠানেই এই হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছেন।

বক্তব্য ঘটনার বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী জানান, "বাইরে থেকে হঠাৎ কয়েকজনকে ভেতরে ঢুকতে দেখা যায়। কিন্তু তারা যেভাবে ভাঙচুর করছিল, তাতে মনে হয়নি তারা পেশাদার কোনো সন্ত্রাসী। পুরো বিষয়টিই সাজানো মনে হচ্ছিল।”

অন্যদিকে, অভিযুক্ত মালিক তন্বীর সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি নিজেকে নির্দোষ দাবি করে বলেন, "আমার ব্যবসায়িক ক্ষতি করার জন্য একটি পক্ষ এই কাজ করেছে।" তবে ব্যাংক ঋণ এবং বীমা দাবির বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো উত্তর তিনি দিতে পারেননি।

প্রেক্ষাপট উল্লেখ্য যে, উক্ত প্রতিষ্ঠানের মালিক তন্বী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একজন কন্টেন্ট ক্রিয়েটর হিসেবে পরিচিত। তার ব্যক্তিগত জীবন নিয়েও বিভিন্ন সময় আলোচনা-সমালোচনা হয়েছে। জানা গেছে, তিনি প্রথমে এক বয়স্ক ব্যক্তিকে বিয়ে করেছিলেন। তার মৃত্যুর পর তিনি পুনরায় এক যুবককে বিয়ে করেন। এই ব্যক্তিগত জীবনের পরিবর্তনের পাশাপাশি তার ব্যবসায়িক ঋণের পরিমাণও ক্রমান্বয়ে বৃদ্ধি পাচ্ছিল বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন। মূলত এই ঋণের চাপ সামাল দিতেই তিনি এমন বিতর্কিত পথ বেছে নিয়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
বর্তমান অবস্থা বর্তমানে উত্তরার ওই আউটলেটটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখা হয়েছে।

পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট বীমা কর্মকর্তারা বিষয়টি তদন্ত করে দেখছেন। আসলেই এটি কোনো সন্ত্রাসী হামলা নাকি বীমা জালিয়াতির অংশ, তা নিশ্চিত করতে সিসিটিভি ফুটেজ এবং আর্থিক লেনদেনের নথিপত্র যাচাই করা হচ্ছে। তদন্ত সাপেক্ষে দ্রুতই আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী জানিয়েছে।
Previous Post Next Post

বিস্তারিত পড়ুন