ভারতে প্রতি ১০ জন তরুণীর মধ্যে ৭ জন পর্নোগ্রাফিতে আসক্ত

ঢাকা, ১৯ মার্চ: ভারতে তরুণীদের মধ্যে পর্নোগ্রাফি আসক্তি উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে—এমন একটি পরিসংখ্যান সামনে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণা ও জরিপে। প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, দেশটিতে প্রতি ১০ জন তরুণীর মধ্যে প্রায় ৭ জন কোনো না কোনোভাবে পর্নোগ্রাফি বিষয়বস্তুর প্রতি আসক্ত। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, স্মার্টফোনের সহজলভ্যতা, ইন্টারনেটের প্রসার এবং সামাজিক মাধ্যমের প্রভাব এ প্রবণতা বৃদ্ধির অন্যতম কারণ।
গবেষণার তথ্য অনুযায়ী, ১৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণীদের মধ্যে এই প্রবণতা বেশি দেখা যাচ্ছে। জরিপে অংশ নেওয়া অনেকেই জানান, শুরুতে কৌতূহলবশত এসব কনটেন্ট দেখা শুরু করলেও ধীরে ধীরে তা অভ্যাসে পরিণত হয়েছে। বিশেষ করে ব্যক্তিগত ডিভাইসে সহজে ও গোপনে এসব কনটেন্ট দেখার সুযোগ থাকায় আসক্তি বাড়ছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।

মনোরোগ বিশেষজ্ঞ ও সমাজবিজ্ঞানীরা বলছেন, এ ধরনের আসক্তি মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। একাধিক বিশেষজ্ঞের মতে, “অতিরিক্ত পর্নোগ্রাফি গ্রহণ মানুষের বাস্তব সম্পর্ক, আত্মসম্মানবোধ এবং সামাজিক আচরণে বিরূপ প্রভাব ফেলতে পারে।” তারা আরও জানান, বিষয়টি নিয়ে পরিবার ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।

তবে এ ধরনের পরিসংখ্যান নিয়ে কিছু বিশ্লেষক সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন। তাদের মতে, জরিপের পদ্ধতি, নমুনা নির্বাচন এবং তথ্য সংগ্রহের কৌশল সম্পর্কে বিস্তারিত না জানলে পুরো চিত্রটি স্পষ্টভাবে বোঝা কঠিন। ফলে এ তথ্যকে একটি সূচক হিসেবে দেখা উচিত, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হিসেবে নয়।

প্রেক্ষাপট হিসেবে জানা যায়, ভারতে গত এক দশকে ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা ব্যাপকভাবে বেড়েছে। একইসঙ্গে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মের বিস্তার তরুণ সমাজের দৈনন্দিন জীবনে বড় প্রভাব ফেলছে। এর ইতিবাচক দিকের পাশাপাশি নেতিবাচক ব্যবহারের বিষয়টিও ক্রমেই আলোচনায় আসছে।

বর্তমানে বিষয়টি নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানসিক স্বাস্থ্যসেবা জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে পরিবার, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান এবং নীতিনির্ধারকদের সমন্বিত উদ্যোগ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশেষজ্ঞরা।
Previous Post Next Post

বিস্তারিত পড়ুন