নিজস্ব প্রতিবেদক ১৯ মার্চ, ২০২৬
ঢাকা: জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন ও জাতীয় শিশু দিবস উদযাপনের কর্মসূচিতে অংশ নিতে গিয়ে এক ভয়াবহ নির্যাতনের শিকার হয়েছেন খোদ ছাত্রলীগেরই এক নেত্রী। অভিযোগ উঠেছে, গভীর রাতে কেক কাটার আয়োজন চলাকালে সংগঠনটির একাধিক নেতার হাতে তিনি যৌন নিপীড়ন ও ধর্ষণের শিকার হন। চাঞ্চল্যকর এই ঘটনাটি ঘটেছে গত ১৭ মার্চ দিবাগত রাতে। বিষয়টি জানাজানি হওয়ার পর সংগঠনটির ভেতরে এবং রাজনৈতিক অঙ্গনে ব্যাপক ক্ষোভ ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে।
ঘটনার বিবরণ
ভুক্তভোগী ওই নেত্রীর অভিযোগ সূত্রে জানা যায়, শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মদিন উপলক্ষে আয়োজিত একটি ঘরোয়া কেক কাটার অনুষ্ঠানে যোগ দিতে তাকে আমন্ত্রণ জানানো হয়। রাতে অনুষ্ঠান চলাকালে উপস্থিত ছাত্রলীগ নেতারা তাকে একটি কক্ষে নিয়ে গিয়ে পাশবিক নির্যাতন চালায়। ঘটনাটি অত্যন্ত গোপনীয়তার সাথে ঘটানোর চেষ্টা করা হলেও ভুক্তভোগীর শারীরিক অবস্থার অবনতি ঘটলে এবং তিনি সহকর্মীদের কাছে বিষয়টি প্রকাশ করলে তা প্রকাশ্যে আসে। অভিযুক্তরা সবাই স্থানীয় ও কেন্দ্রীয় ছাত্রলীগের প্রভাবশালী পদে আসীন বলে প্রাথমিক তথ্যে জানা গেছে।
বক্তব্য
এ বিষয়ে ভুক্তভোগী নেত্রী গণমাধ্যমকে বলেন, "আমি সংগঠনের প্রতি শ্রদ্ধা থেকেই ওই আয়োজনে গিয়েছিলাম। কিন্তু যাদের ভাই বলে জানতাম, তারাই আমার ওপর এই জঘন্য হামলা চালিয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই।"
এদিকে, ছাত্রলীগের সংশ্লিষ্ট ইউনিটের শীর্ষ নেতাদের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, "আমরা বিষয়টি সম্পর্কে অবগত হয়েছি। সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে সাংগঠনিকভাবে সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো অপরাধীর দায় সংগঠন নেবে না।"
প্রেক্ষাপট
সাম্প্রতিক সময়ে ছাত্রলীগের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের বিরুদ্ধে অভ্যন্তরীণ কোন্দল, সাধারণ শিক্ষার্থীদের ওপর নির্যাতন এবং শৃঙ্খলাভঙ্গের নানা অভিযোগ উঠলেও, নিজ সংগঠনের নারী সহকর্মীর ওপর এমন যৌন নির্যাতনের ঘটনা নজিরবিহীন ও উদ্বেগজনক। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, নৈতিক অবক্ষয় এবং জবাবদিহিতার অভাবেই রাজনৈতিক সংগঠনের ভেতরে এ ধরনের অপরাধমূলক প্রবণতা বাড়ছে।
বর্তমান অবস্থা
উক্ত ঘটনায় সংশ্লিষ্ট এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী নেত্রী আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু করেছেন বলে জানা গেছে। পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, তারা অভিযোগ পাওয়ার অপেক্ষায় রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে ছায়াতদন্ত শুরু করেছে। অভিযুক্তরা বর্তমানে গা ঢাকা দিয়েছেন বলে স্থানীয় সূত্রে খবর পাওয়া গেছে।