নরসিংদীর পলাশ উপজেলার চরসিন্দুর ইউনিয়নে এক নারীর দুই স্বামীকে কেন্দ্র করে পারিবারিক ও আইনগত জটিলতা সৃষ্টি হয়েছে। সন্তানের পিতৃত্ব ও ভবিষ্যৎ সম্পত্তির অধিকার নিয়ে বিরোধ চরমে পৌঁছালে সংশ্লিষ্ট নারী পুলিশের সহায়তা নিতে থানায় উপস্থিত হন।
পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, চরসিন্দুর গ্রামের বাসিন্দা রোকেয়া বেগম (২৮) প্রথমে একই এলাকার মো. সাইফুল ইসলাম (৩৫)-কে বিয়ে করেন। পরবর্তীতে দাম্পত্য কলহের কারণে তিনি স্বামীর কাছ থেকে আলাদা থাকেন। তবে আইনিভাবে বিচ্ছেদ সম্পন্ন না করেই তিনি অপর একজন ব্যক্তি মো. জাহিদ হাসান (৩২)-এর সঙ্গে দ্বিতীয় বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন।
সম্প্রতি রোকেয়া বেগম অন্তঃসত্ত্বা হলে উভয় পক্ষের মধ্যে নতুন করে বিরোধ দেখা দেয়। এ সময় থানায় লিখিত অভিযোগ জানাতে গিয়ে তিনি পুলিশের কাছে বলেন,
“সন্তান ছেলে হোক কিংবা মেয়ে—সে যেন দুই বাবার সম্পত্তির ন্যায্য অংশ থেকে বঞ্চিত না হয়।”
এদিকে উভয় পুরুষই নিজেদের স্বামী দাবি করে সন্তানের পিতৃত্ব নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন বক্তব্য দেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে স্থানীয়দের মধ্যস্থতায় বিষয়টি পুলিশ পর্যন্ত গড়ায়।
পলাশ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. কামরুল ইসলাম বলেন,
“বিষয়টি সংবেদনশীল ও আইনগতভাবে জটিল। উভয় পক্ষের বক্তব্য গ্রহণ করা হয়েছে। প্রয়োজনে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী ডিএনএ পরীক্ষা ও পরবর্তী আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
আইনজ্ঞদের মতে, দেশে প্রচলিত পারিবারিক আইন অনুযায়ী পিতৃত্ব ও সম্পত্তির অধিকার নির্ধারণে আদালতের রায় অপরিহার্য। যথাযথ আইনি প্রক্রিয়া অনুসরণ ছাড়া এ বিষয়ে কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত কার্যকর হয় না।
ঘটনাটি এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। স্থানীয়রা দ্রুত আইনগত সমাধানের মাধ্যমে বিষয়টির নিষ্পত্তি দাবি করেছেন।

0 Comments